২০ জুলাই ২০২৬ - ১২:২০
ইরানের হামলার পর জর্ডানের বন্দর ও ইসরায়েলের বিমানবন্দর বন্ধ

জর্ডানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে, দেশটির কর্তৃপক্ষ আকাবা বন্দর পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে/একই সঙ্গে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের ইলাত শহরের উত্তরে অবস্থিত র‍্যামন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): জর্ডানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগত এলাকা এবং আকাবা উপসাগরের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত অঞ্চলগুলো কিছুক্ষণ আগে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যকে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

জরুরি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জর্ডানের কর্তৃপক্ষ কৌশলগত আকাবা বন্দরের পুরো এলাকা বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে দখলকৃত ফিলিস্তিনের দক্ষিণে, ইলাত শহরের নিকটবর্তী এবং আকাবা উপসাগরের পশ্চিম তীরে অবস্থিত র‍্যামন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সব ধরনের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

ইহুদিবাদী ইসরায়েলের চ্যানেল–১২ টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার পর ইলাত ও আকাবা অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (ট্যাঙ্কার) বিমান মোতায়েন রয়েছে।

এরপর ইসরায়েলি চ্যানেল–১৩ জানায়,  জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরের কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মার্কিন ট্যাঙ্কার বিমানগুলো র‍্যামন বিমানবন্দর থেকে সরে গেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও দাবি করেছে, দক্ষিণ জর্ডানের আকাবা শহরের দিকে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং এর কিছু অংশ ইসরায়েলের ভূখণ্ডে পড়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে, জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে।

এই অঞ্চলগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে, সেখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা শুধু জর্ডান ও ইসরায়েলের নিরাপত্তাকেই প্রভাবিত করবে না; একইসঙ্গে আকাবা উপসাগরের কৌশলগত বন্দরগুলো দিয়ে যাত্রী চলাচল ও জরুরি পণ্য পরিবহনও ব্যাহত করবে।

আকাবা শহরটি আকাবা উপসাগরের পূর্ব তীরে অবস্থিত এবং ইসরায়েল, সৌদি আরব ও মিসরের সীমান্তের কাছে অবস্থান করছে। অপরদিকে, ইলাত শহরটি উপসাগরের পশ্চিম তীরে অবস্থিত।

আকাবা বন্দর দেশটির একমাত্র সমুদ্রবন্দর এবং আমদানি-রপ্তানির প্রধান প্রবেশদ্বার। ফলে এর কার্যক্রমে যেকোনো বিঘ্ন খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে এবং পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এমন দিকে এগোচ্ছে যে মনে হচ্ছে এই অঞ্চলের কৌশলগত সমীকরণ পরিবর্তিত হচ্ছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় নতুন এক উত্তেজনার অধ্যায় শুরু হয়েছে, যার প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ওপরও পড়তে পারে।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha